SMDN Tutorial

All in One Destination for Smart Education. One Platform Endless Learning. Empowering your Learning Journey.

Breaking

Showing posts with label STORY. Show all posts
Showing posts with label STORY. Show all posts

Friday, December 24, 2021

December 24, 2021

গল্পে গল্পে Parts of Speech । Parts of Speech Special Tricks

.... 🌸গল্পে গল্পে Parts of Speech🌸.....  
**************************************
Noun আর তার ভাইয়েরা মোট ৮ জন । তাদের বাড়ির নাম হল Sentence ভিলা । সমাজের মানুষ তাদের Parts of speech বলে ডাকে । এক বাড়িতেই (Sentence) তারা ৮ ভাই থাকে । তবে তাদের কাজকর্ম এক না । 

১ম ভাইয়ের নাম হল Noun । তার কাজ হল সব কিছুর নাম বলা । বাড়িতে যা যা দরকার শাকসবজি, গোশত, মাছ সবকিছুর নাম বলা ।

২য় ভাইয়ের নাম হল Pronoun । Noun বাড়িতে না থাকলে সে noun এর কাজ করে দেয় । Noun এর অনুপস্থিতিতে Noun এর সব কাজ Pronoun ই করে ।

৩য় ভাইয়ের নাম হল Adjective । Noun ও Pronoun এর পিছনে গোয়েন্দাগিরি করা । তাদের দোষ-গুণ লিখে রাখাই হল Adjective এর কাজ ।

৪র্থ ভাইয়ের নাম হল Verb । তার কাজ হল সবার কাজ বলে দেওয়া । খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, স্নান সব কাজ বলে দেওয়া ।

৫ম ভাইয়ের নাম হলো Adverb । তার কাজ হল ৩য় ও ৪র্থ ভাই (Verb, Adjective) এর নজরদারি করা । তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা । মাঝেমধ্যে সে নিজের অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করে ।

৬ষ্ঠ ভাইয়ের নাম হল Preposition । ভাইদের মাঝে সম্পর্কের বন্ধন তৈরি করাই তার কাজ ।
(Noun ➕ Verb➕Pronoun, Noun➕ Noun)

৭ম ভাইয়ের নাম হল Conjunction । তার কাজ Preposition এর কাজের চেয়ে বড় । সে এক বাড়ির সাথে অন্য বাড়ির আত্মীয়তার সম্পর্ক সৃষ্টি করে এবং তারা সবাই মিলে সেই বাড়িতে নিমন্ত্রণ খায় ।
(Sentence ➕ Sentence) 

৮ম ভাইয়ের কাজটা খুবই দারুণ ! তার নাম Interjection । সে আনন্দে-দুঃখে সব সময় সবার পাশে থাকে । সবার আবেগ প্রকাশ করাই তার একমাত্র কাজ।

Sunday, September 6, 2020

September 06, 2020

বন্ধু

"বন্ধু"
=================================
অনেক বছর আগের ঘটনা, একবার এক চাষি তার বাড়ির উঠোনে বসে বিশ্রাম করছিলেন। এমন সময় তার একমাত্র ছেলে ছুটে আসে এবং বাবাকে খবর দেয়, যে রাস্তার ধারের পুকুরে একটি ছেলে ডুবে যাচ্ছে।

শুনে চাষী তৎক্ষণাৎ পুকুরের কাছে পৌঁছায়। গিয়ে দেখে তার ছেলের বয়সী একটি ছেলে জলে হাবুডুবু খাচ্ছে। পোশাক পরিচ্ছদ দেখে কোন শহরের ধনীর দুলাল বলে মনে হচ্ছে।

সাথে বেশ কিছু বন্ধু বান্ধব থাকলেও তারা সাঁতার না জানায় পারে দাঁড়িয়ে বন্ধুর সাহায্যের জন্য চিৎকার করছে। চাষী আর একমুহূর্ত সময় নষ্ট না কোরে জলে ঝাপিয়ে পরে এবং ছেলেটিকে উদ্ধার করেন।

এই ঘটনার দিন দুয়েক পর হঠাৎ একদিন গ্রামের পথে ধুলো উড়িয়ে এক ঘোড়ায় টানা সুসজ্জিত গাড়ি, আগু পিছু অস্ত্রধারী অশ্বারোহী নিয়ে চাষীর বাড়ির সামনে এসে থামলো।

চাষী কিছুটা ভয় পেয়েছিল বৈকি। এরপর গাড়ি থেকে যে ব্যক্তি নেমে এলেন তার ব্যক্তিত্ব তার ঐশ্বর্যের পরিচয় বহন করে কিন্তু তার মুখের স্মিত হাসি চাষীকে কিছুটা আস্বস্ত করেন। তিনি স্মিত হেসে বলেন,

--- "আপনি সেই মহানুভব যিনি আমার একমাত্র ছেলের জীবন বাঁচিয়ে ছিলেন?" কৃষক মৃদু হেসে বললেন,

--- "আজ্ঞে হ্যা।" সেই ব্যক্তি এরপর গরিব চাষীর হাত ধরে অশ্রু সজল চোখে বলেন,

--- "আপনার ঋণ আমি শোধ করতে পারবো না। তবু বলুন আমি আপনার জন্য কি করতে পারি?" চাষী প্রথমে কিছু নিতে রাজি হয় না, শেষ মেষ অনেক অনুরোধের পর বলেন,

--- "দেখুন আমার সেই ক্ষমতা নেই যে আমার ছেলেকে ভালো স্কুলে পড়াই। তাই যদি আপনি ওর একটা ভালো স্কুলে পড়ার ব্যবস্থা করদেন তাহলেই আমি চির কৃতজ্ঞ থাকবো আপনার কাছে।" এই শুনে সেই ভদ্রলোক হেসে বললেন,

--- "ঠিক আছে এই যদি আপনার ইচ্ছা হয় তবে আজ থেকে আপনার ছেলে আমার ছেলের সাথে একসাথে পড়াশুনো করবে, এবং ওকে আমি আমার বাড়িতে রেখে পড়াবো।"

এরপর প্রায় অনেক বছর কেটে গেছে। চাষীর ছেলে আর ধনী দুলালের বন্ধুত্ব সময়ের সাথে আরো গভীর হয়েছে। দুজনেই অত্যন্ত মেধাবী, যদিও দুজনের পছন্দ ছিল সম্পূর্ন আলাদা।ধনীর দুলালের আকর্ষণ রাজনীতি, আর তার বন্ধুর চিকিৎসা বিজ্ঞান।

স্নাতক হবার পর একজন মন দেয় অণুজীব নিয়ে গবেষণায়, আর একজন রাজনীতিতে।গবেষক বন্ধুর একে একটা গবেষণা পত্র যখন চিকিৎসা দুনিয়ায় আলোড়ন ফেলছে। তখন আর এক বন্ধুর নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা আকৃষ্ট করছে ইংল্যান্ডের যুব সমাজকে।

এর মধ্যেই সেই রাজনীতিবিদ বন্ধু এক গভীর অসুখে আক্রান্ত হয়। অনেক বড় বড় চিকিৎসক যখন ব্যর্থ হয় ফিরে যায়, তখন সেই গবেষক বন্ধু এগিয়ে আসে।

দিন রাত এক করে নিজের তৈরি ওষুধে চিকিৎসা করতে থাকেন নিজের বন্ধুর। এবং সম্পূর্ন সুস্থ করে তোলেন নিজের প্রাণাধিক প্রিয় বন্ধুকে। কারণ তাকে ছাড়া তো আধুনিক বিশ্বের ইতিহাস লেখাই অসম্পূর্ন থাকতো

জানেন এই দুজন কে? সেই চাষীর ছেলে হলেন বিশ্ববন্দিত বিজ্ঞানী, পেনিলিসিলিনের আবিস্কারক স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং। আর তার বন্ধুটি হলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল।

বন্ধুত্বের কোনো শেষ নেই। বন্ধুত্ব, ঈশ্বরের এক অমূল্য সৃষ্টি। ওদের ছাড়া জীবন সত্যিই খুব অসম্পূর্ণ। এই পোস্টটা আমাদের সমস্ত পাঠক বন্ধুদের উৎসর্গ করলাম ।

Tuesday, September 1, 2020

September 01, 2020

স্মরনে রাষ্ট্রপতি প্রনব মুখোপাধ্যায়

স্মরনে
এক নজরে রাষ্ট্রপতি প্রনব মুখোপাধ্যায়

1. জন্ম=11ই ডিসেম্বর.1935
2. জন্মস্থান=মিরাটি.জেলা বীরভূম.পঃবঙ্গ
3. ধর্ম===হিন্দু
4. শিক্ষা=রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসে M.A.এবং L.L.B.(কঃবিঃ)
5. কর্মজীবন শুরু=ডাক ও তার বিভাগের U.D.C.পরে বিধাননগর কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক
6. নির্দল প্রার্থীর হয়ে প্রচার করতে গিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ=1969
7. ইন্দিরা গান্ধীর হাত ধরে কংগ্রেসে যোগদান=1969
8. কংগ্রেস দল থেকে প্রথম রাজ্যসভার সদস্য=1969
9. মোট পাঁচবার রাজ্যসভার সদস্য=1969,75,81,93,99.
10. পশ্চিমবঙ্গ থেকে কতবার রাজ্যসভার সদস্য=চারবার(গুজরাট একবার)
11. সর্বপ্রথম কেন্দ্রে শিল্পোন্নয়ন দপ্তরের প্রতি মন্ত্রী হন=1973
12. জাহাজ ও পরিবহন দপ্তরের মন্ত্রী হন=1974
13. কেন্দ্রে অর্থ দপ্তরের রাষ্ট্র মন্ত্রী হন=1974
14. কেন্দ্রে রাজস্ব ও ব্যাঙ্কিং দপ্তরের মন্ত্রী হন=1975
15. কংগ্রেস দলের/AICC-র(All India Congress committee) কোষাধ্যক্ষ/সদস্য হন=1978
16. রাজ্যসভায় কংগ্রেসের দলনেতা হন=1980
17. কেন্দ্রীয় বানিজ্য এবং খনি ও ইস্পাত মন্ত্রী হন=1980
18. কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রী হন=1982
19. আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডারের(IMF) বোর্ড অফ গভর্নরস হন=1982
20. বিশ্ব ব্যাঙ্কের(World Bank) বোর্ড অফ গভর্নরস হন=1982
21. এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের(ADB) বোর্ড অফ গভর্নরস হন=1982
22. আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাঙ্কের(ADB) বোর্ড অফ গভর্নরস হন=1982
23. কেন্দ্রীয় বানিজ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী হন=1984
24. G-24 এর সভাপতি নিযুক্ত হন=1984
25. পঃবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হন তিন বার=1985,2000,2001.
26. রাজীবের সঙ্গে মনোমালিন্যের জন্য নতুন দল রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস(RSC) গঠন করেন=1986
27. AICC-এর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সেলের সভাপতি হন=1987
28. পুনরায় রাজীবের হাত ধরে কংগ্রেসে যোগদান করেন=1989
29. প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও কর্তৃক পরিকল্পনা কমিশনের সহ-সভাপতি নিযুক্ত হন=1991
30. কেন্দ্রীয় বানিজ্য মন্ত্রী হন=1993
31. কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রী নিযুক্ত হন দুবার=1995 এবং 2006.
32. SAARC এর মন্ত্রী পরিষদের সম্মেলনের সভাপতি হন=1995
33. AICC(All India Congress Committee)এর সাধারন সম্পাদক হন=1998
34. কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী সমন্বয় কমিটির সভাপতি হন=1999
35. সর্বপ্রথম চতুর্দশ* লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেন=2004.(কেন্দ্র-জঙ্গীপুর,মুর্শিদাবাদ,পঃবঙ্গ)
36. লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা হন=2004
37. কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নিযুক্ত হন=2004
38. পুনরায় কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রী নিযুক্ত হন=2006
39. দ্বিতীয়বার পঞ্চদশ* লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেন=2009.(কেন্দ্র-জঙ্গীপুর,মুর্শিদাবাদ,পঃবঙ্গ)
40. পুনরায় কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রী নিযুক্ত হন=2009
41. পুনরায় G-24 এর সভাপতি নিযুক্ত হন=2009
42. সর্বপ্রথম বাঙালী রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হন=2012(22শে জুলাই)**
43. ত্রয়োদশতম রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপত গ্রহন করেন=2012.25শে জুলাই***
44. রাষ্ট্রপতি হিসাবে প্রনববাবুকে শপতবাক্য পাঠ করান=S.H.কাবাডিয়া(সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি)
45. কোন রাজনৈতিক জোটের প্রার্থী হিসাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন=UPA(United Progressive Alliance)
46. NDA জোটের যে প্রার্থীকে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন=P.A.সাংমা(লোকসভার প্রাক্তন স্পীকার ছিলেন)
47. সরকারের 64বছরের পরিকল্পনা অবলুপ্ত করে NITI আয়োগ গঠনের সাক্ষী হন =2015(জানুয়ারি)
48.  সরকারের বাংলা দেশের সঙ্গে ছিটমহল চুক্তি সম্পাদনের জন্য 100তম সংবিধান সংশোধনের সাক্ষী হন=2015(May)
49. সরকারের GST বিল পাস করার জন্য 101তম সংবিধান সংশোধনের সাক্ষী হন=আগষ্ট 2016
50. রাষ্ট্রপতি হিসাবে প্রনববাবু GST বিলে স্বাক্ষর করেন=8ই সেপ্টেম্বর2016
51. সরকারের পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গী নিধনের জন্যে সেদেশের মধ্যে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সাক্ষী হন =29,Sept,2016
52. সরকারের নোট বাতিল(Demonetisation) সিধান্তের সাক্ষী হন=8ই Nov,2016
53. সরকারের GST আইন কার্যকর করার সাক্ষী হন=1/7/2017
54. রাষ্ট্রপতি হিসাবে প্রনববাবু পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেন=24/07/2017
55. রাষ্ট্রপতি হিসাবে প্রনববাবু বেতন পেতেন=1.5 লক্ষ টাকা
56. প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হিসাবে প্রনববাবু পেনশন পাবেন=75 হাজার টাকা.
57. অসুস্থতাসহ হাসপাতালে ভর্তি হন=আগস্ট-2020
58. হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় প্রনববাবুর মৃত্যু=31/08/2020
প্রনববাবুর উপাধি ও সম্মান
1. পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অর্থমন্ত্রী সম্মান=1984
2. ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মভূষন=2008
3. ভারতের শ্রেষ্ঠ প্রশাসকের সম্মান=2011
4. বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ডক্টরেট উপাধি=8টি(2011-2015)
5. আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ডি.লিট উপাধি=2012
6. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্মান=2013
7. আইভরি কোস্ট সরকারের গ্রান্ড ক্রস সম্মান=2016
8. আবাইজান রাষ্ট্রের সাম্মানিক নাগরিকত্বের সম্মান=2016
প্রনববাবুর গ্রন্থ সমূহ
1. Midterm Poll
2. Beyond Survival
3. Off the Track
4. Saga of Struggle and Sacrifice
5. Challenges before the Nations
6. A Centenary History of the INC
7. Congress and the Making of the Indian Nation
8. Thought and Reflections
9. The Dramatic decade:The indira Gandhi years
10. Selected Speeches
11. The Turbulent Years

Tuesday, August 11, 2020

August 11, 2020

Mathematician S N Dey । গণিতের উদাহরণের আড়ালের মানুষ সুরেন্দ্রনাথ দে কে শ্রদ্ধাঞ্জলি

বইয়ের পাতার অসংখ্য জটিল অঙ্ক আর উদাহরণের মধ্যে আড়ালেই থেকে গিয়েছেন মানুষটি। আর এভাবেই আড়ালে থেকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন গণিতের এই শিক্ষক। গত ৬ আগস্ট রাত ১১টা বেজে ২০ মিনিটে সেরিব্রাল অ্যাটাকে মারা যান সৌরেন্দ্রনাথ দে। 
১৯৪৪ সালে শ্রীরামপুরের কালিতলা অঞ্চলে জন্ম সৌরেন্দ্রনাথ দে-র। পারিবারিক অবস্থা তেমন স্বচ্ছল ছিল না। কিন্তু ছোটোবেলা থেকেই পড়াশুনোর প্রতি, বিশেষ করে অঙ্কের প্রতি তার আগ্রহ সবাইকেই অবাক করেছিল। আর তাই নিজের মেধার জোরেই পড়াশুনো চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

প্রথমে শ্রীরামপুর ইউনিয়ন স্কুলে প্রাথমিক পড়াশুনো এবং তারপর শ্রীরামপুর কলেজ থেকে প্রি-ইউনিভার্সিটি স্তরের পড়াশুনো শেষ করে ভর্তি হন বিদ্যাসাগর কলেজে। সেখান থেকেই স্নাতক এবং তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত গণিতে স্নাতোকত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। অতঃপর পিএইচডি করে যোগ দেন শিক্ষকতায়। দক্ষিণ কলকাতার হেরম্বচন্দ্র কলেজে (সিটি কলেজ) গণিত ও পরিসংখ্যান বিষয়ের অধ্যাপক ছিলেন তিনি। পাশাপাশি শিবনাথ শাস্ত্রী কলেজ এবং ব্যারাকপুরের মহাদেবানন্দ কলেজে আংশিক সময়ের অধ্যাপনা করেছেন সৌরেন্দ্রনাথ দে।

তবে কলেজের অধ্যাপনার সময়েও তাঁর মনে হত, গণিতশিক্ষার শুরুটা হওয়া উচিত মাধ্যমিক স্তরের পর থেকেই। বিশেষ করে এই সময়েই তো গণিতের নতুন নতুন প্রয়োগের সঙ্গে পরিচিত হয় পড়ুয়ারা। আর এইসময়েই তো অঙ্ক নিয়ে ভয় কাজ করে সবথেকে বেশি। তাই সেইসব পড়ুয়াদের জন্যই লেখা হল একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর বই। তবে শুধু বই লেখাই নয়, মেধাবী পড়ুয়াদের নিজের দায়িত্বে পড়ানোর দায়িত্বও নিতেন তিনি। এমনকি তাঁর ছাত্রছাত্রীদের কাছে জানা গিয়েছে, অনেক পড়ুয়াকে নাকি বিনা পারিশ্রমিকেও গাইড করেছেন তিনি। বৈদ্যবাটি শহরের একেবারে আপনজন হয়ে উঠেছিলেন এই দিলখোলা মানুষটি।

প্রতিবেশীদের কথায়, জীবনে কোনোরকম আড়ম্বর পছন্দ করতেন না এস. এন. দে। তবে তিনি যে কৃপণ মানুষ ছিলেন, তাও নয়। পাড়ার দুর্গাপুজোয় একবার প্রত্যেকের ভুরিভোজের আয়োজন করেছিলেন তিনি নিজেই। কিন্তু জীবনযাপন ছিল একেবারেই সাদামাটা। গণিতের ‘বেস্ট সেলার’ বইয়ের লেখক হয়ে তিনি হয়তো অনেক জায়গাতেই প্রভাব বিস্তার করতে পারতেন। কিন্তু এধরনের চতুরতার আশ্রয় নেননি কোনোদিন। সারাদিন অঙ্ক নিয়েই মেতে থাকতেন। সেখানেই তাঁর নেশা।

শেষ জীবনটা অবশ্য বেশ একাকিত্বের মধ্যেই কাটিয়েছেন। স্ত্রী’র মৃত্যু তাঁকে বেশ কাবু করেছিল। আর তার কিছুদিন পরেই খাদ্যনালিতে ক্যানসার ধরা পড়ে তাঁর। তবে যতদূর জানা গিয়েছে, ক্যানসারে মৃত্যু হয়নি তাঁর। মৃত্যু হয়েছে হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। কিন্তু লেখক সশরীরে না থাকলেও তাঁর লেখা বই থেকে যাবে। সেইসব বই আগামী দিনেও পড়ুয়াদের গণিত শিখতে সাহায্য করবে। তবে তাঁর অদ্ভুত প্রতিভার কথা হয়তো অনেকেই জানতে পারবেন না। কেবল যে গুটিকয় পড়ুয়া তাঁর কাছে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন, তাঁরা জানেন কীভাবে কোনোরকম খাতা-পেন ছাড়াই মুখে মুখে জটিল সমস্যার সমাধান করে দিতে পারতেন সৌরেন্দ্রনাথ দে। অঙ্কই যে ছিল তাঁর নিকট সঙ্গী।

Sunday, August 2, 2020

August 02, 2020

শ্রদ্ধা জানাই : আচার্য স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রায়

শ্রদ্ধা জানাই ...
***********************************************
আচার্য স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রায় (২রা আগস্ট,১৮৬১ - ১৬ই জুন,১৯৪৪) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালী রসায়নবিদ, শিক্ষক, দার্শনিক ও কবি। তিনি বেঙ্গল কেমিক্যালসের প্রতিষ্ঠাতা এবং মার্কিউরাস নাইট্রাইটের আবিষ্কারক। দেশি শিল্পায়ন উদ্যোক্তাও ছিলেন তিনি। তাঁর জন্ম অবিভক্ত বাংলার যশোর জেলায় (বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্গত)। তিনি বৈজ্ঞানিক জগদীশ চন্দ্র বসুর সহকর্মী ছিলেন।

পি সি রায় বাংলাদেশের খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার রাডুলি গ্রামে ১৮৬১ সালের ২রা আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ভুবনমোহিনী দেবী এবং হরিশচন্দ্র রায়ের পুত্র। হরিশচন্দ্র রায় স্থানীয় জমিদার  ছিলেন। বনেদি পরিবারের সন্তান প্রফুল্লচন্দ্র ছেলেবেলা থেকেই সব বিষয়ে অত্যন্ত তুখোড় এবং প্রত্যুৎপন্নমতি ছিলেন।

তাঁর পড়াশোনা শুরু হয় বাবার প্রতিষ্ঠিত এম ই স্কুলে। ১৮৭২ খ্রীষ্টাব্দে তিনি কলকাতার হেয়ার স্কুলে ভর্তি হন, কিন্তু রক্ত আমাশায় রোগের কারণে তাঁর লেখাপড়ায় ব্যাপক বিঘ্নের সৃষ্টি হয়। বাধ্য হয়ে তিনি নিজ গ্রামে ফিরে যান। গ্রামে থাকার এই সময়টা তাঁর জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনে সাহায্য করেছে। বাবার গ্রন্থাগারে প্রচুর বই পান তিনি এবং বইপাঠ তার জ্ঞানমানসের বিকাশসাধনে প্রভূত সহযোগিতা করে।

১৮৭৪ খ্রীষ্টাব্দে প্রফুল্লচন্দ্র কলকাতায় পুনরায় ফিরে অ্যালবার্ট স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুল থেকেই ১৮৭৮ খ্রীষ্টাব্দে তিনি স্কুল ফাইনাল তথা প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মেট্রোপলিটন কলেজে (বর্তমান বিদ্যাসাগর কলেজ) ভর্তি হন। ১৮৮১ খ্রীষ্টাব্দে সেখান থেকে কলেজ ফাইনাল তথা এফ এ পরীক্ষায় (ইন্টারমিডিয়েট বা এইচএসসি) দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করে তিনি প্রেসিডেন্সী কলেজে বি এ ক্লাসে ভর্তি হন। প্রেসিডেন্সী থেকে গিলক্রিস্ট বৃত্তি নিয়ে তিনি স্কটল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে যান। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বি এসসি পাশ করেন।

পরবর্তীকালে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়েই ডি এসসি ডিগ্রী লাভের জন্য গবেষণা শুরু করেন। তার সেই গবেষণার বিষয় ছিল কপার ম্যাগনেসিয়াম শ্রেণীর সম্মিলিত সংযুক্তি পর্যবেক্ষণ (Conjugated Sulphates of Copper Magnesium Group: A Study of Isomorphous Mixtures and Molecular Combination)। দুই বছরের কঠোর সাধনায় তিনি এই গবেষণা সমাপ্ত করেন এবং পিএইচ ডি ও ডি এসসি ডিগ্রী লাভ করেন। এমনকি তার এই গবেষণাপত্রটি শ্রেষ্ঠ মনোনীত হওয়ায় তাকে হোপ প্রাইজে ভূষিত করা হয়। এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে  অধ্যয়নকালেই ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে সিপাহী বিদ্রোহের আগে ও পরে (India Before and After the Sepoy Mutiny) এবং ভারতবিষয়ক বিভিন্ন নিবন্ধ লেখেন।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ঘুরে ১৮৮৮ খ্রীষ্টাব্দে প্রফুল্লচন্দ্র রায় স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। দেশে ফিরে প্রেসিডেন্সী কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। প্রায় ২৪ বছর তিনি এই কলেজে অধ্যাপনা করেছিলেন। অধ্যাপনাকালে তাঁর প্রিয় বিষয় রসায়ন নিয়ে তিনি নিত্য নতুন অনেক গবেষণাও চালিয়ে যান। তাঁর উদ্যোগে নিজস্ব গবেষণাগার থেকেই বেঙ্গল কেমিক্যাল কারখানা সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীকালে ১৯০১ খ্রীষ্টাব্দে তা কলকাতার মানিকতলায় ৪৫ একর জমিতে স্থানান্তরিত করা হয়। তখন এর নতুন নাম রাখা হয় বেঙ্গল কেমিক্যাল এন্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস লিমিটেড।

নিজের বাসভবনে দেশীয় ভেষজ নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে তিনি তার গবেষণাকর্ম আরম্ভ করেন। তার এই গবেষণাস্থল থেকেই পরবর্তীকালে বেঙ্গল কেমিক্যাল কারখানার সৃষ্টি হয় যা ভারতবর্ষের শিল্পায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। তাই বলা যায় বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ভারতীয় উপমহাদেশের শিল্পায়নে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

১৮৯৫ খ্রীষ্টাব্দে তিনি মারকিউরাস নাইট্রাইট আবিষ্কার করেন যা বিশ্বব্যাপী আলোড়নের সৃষ্টি করে। এটি তাঁর অন্যতম প্রধান আবিষ্কার। তিনি তার সমগ্র জীবনে মোট ১২টি যৌগিক লবণ এবং ৫টি থায়োএস্টার আবিষ্কার করেন।
সমবায়ের পুরোধা স্যার পিসি রায় ১৯০৯ খ্রীষ্টাব্দে নিজ জন্মভূমিতে একটি কো-অপারেটিভ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯০৩ খ্রীষ্টাব্দে বিজ্ঞানী পি সি রায় পিতার নামে আর,কে,বি,কে হরিশ্চন্দ্র স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
বাগেরহাট জেলায় ১৯১৮ সালে তিনি পি, সি কলেজ  নামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। যা আজ বাংলাদেশের শিক্ষা বিস্তারে বিশাল ভূমিকা রাখছে।

সম্মাননা :

শিক্ষকতার জন্য তিনি সাধারণ্যে ‘‘আচার্য’’ হিসেবে আখ্যায়িত।

সি আই ই: ১৯১১ খ্রীষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের  সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে তৃতীয়বারের মত তিনি ইংল্যান্ড যান এবং সেখান থেকেই সি আই ই লাভ করেন।
সম্মানসূচক ডক্টরেট: ১৯১১ খ্রীষ্টাব্দে ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় তাকে এই ডিগ্রী দেয়। এছাড়া ১৯৩৬ খ্রীষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরবর্তীকালে মহীশুর  ও বেনারস বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তিনি ডক্টরেট পান।
নাইট : ১৯১৯ খ্রীষ্টাব্দে তিনি ব্রিটিশ সরকার প্রদত্ত নাইট উপাধি লাভ করেন।

আচার্য দেবের দেশপ্রেম তাকে ইউরোপে থেকে ফিরিয়ে এনেছিল। দেশে এসেও তিনি তার সেই স্বদেশপ্রীতির পরিচয় দিয়েছেন। তিনি ক্লাসে বাংলায় লেকচার দিতেন। বাংলা ভাষা তার অস্তিত্বের সাথে মিশে ছিল। তার বাচনভঙ্গী ছিল অসাধারণ যার দ্বারা তিনি ছাত্রদের মন জয় করে নিতেন খুব সহজেই। তিনি সকল ক্ষেত্রেই ছিলেন উদারপন্থী।

কিছু সূত্র মতে, তিনি অসাম্প্রদায়িকই শুধু ছিলেন না বরং সাম্প্রদায়িক চিন্তাধারার মূলোৎপাটনের জন্যও চেষ্টা করেছেন সবসময়। ১৯২৫ খ্রীষ্টাব্দে ড. কুদরত-এ-খুদাকে  প্রেসিডেন্সী কলেজে থেকে রসায়নে প্রথম বিভাগ দেওয়া হয়। অনেকের বিরোধিতা সত্ত্বেও প্রফুল্লচন্দ্র নিজের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কুদরত-এ-খুদাকে প্রথম বিভাগ দেন। এরকম ব্যাপার শোনা যায় শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুক হকের জীবনী থেকেও।

গ্রন্থাবলী :

India Before and After the Sepoy Mutiny (ভারত : সিপাহী বিদ্রোহের আগে ও পরে)।
সরল প্রাণিবিজ্ঞান, বাঙ্গালী মস্তিষ্ক ও তার অপব্যবহার
হিন্দু রসায়নী বিদ্যা।
মোট গবেষণাপত্রের সংখ্যা ১৪৫ টি।
(সৌজন্যে : উইকিপিডিয়া)

Tuesday, July 14, 2020

July 14, 2020

অন্ধকার বলে কি কিছু আছে, শিক্ষামূলক গল্প

নাস্তিক প্রফেসর ক্লাসে ঢুকেই তার ছাত্রদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন,
 "পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব কি সৃষ্টিকর্তা তৈরি করেছেন?"
একজন ছাত্র বেশ আত্নবিশ্বাসের সাথেই উত্তর দিলো, হ্যাঁ স্যার। সবকিছুই সৃষ্টিকর্তা তৈরি করেছেন।
"তাই নাকি! ছাত্র টির উত্তর শুনে মুচকি হাসেন প্রফেসর। সৃষ্টিকর্তা সত্যিই সবকিছু তৈরি করেছেন? তুমি ভেবে বলছো?"
ছাত্র টি আগের মত আত্নবিশ্বাসের সাথে হ্যা বোধক উত্তর দিতেই প্রফেসর আবারও প্রশ্ন করেন, "সৃষ্টিকর্তাই যদি সবকিছু তৈরি করে থাকেন তাহলে উনি তো খারাপ কেও সৃষ্টি করেছেন। তোমার উত্তর অনুযায়ী যেহেতু খারাপের অস্তিত্ব আছে এবং আমরা কি সেটা আমাদের কাজের উপর নির্ভর করেই নির্ধারণ হয়, সেই যুক্তি অনুযায়ী তাহলে সৃষ্টিকর্তা নিজেই খারাপ। কারন আমাদের ভাল-মন্দ সব গুণ উনি তৈরি করেছেন।"
প্রফেসরের এমন কথা শুনে সব ছাত্র চুপ হয়ে গেলো। কেউ কিছু বলছেনা।
ছাত্রদের চুপ হয়ে যাওয়া দেখে প্রফেসর নিজের উপর বেশ সন্তুষ্ট হলেন।
কিছুক্ষণ পর আরেকজন ছাত্র উঠে দাড়ালো। প্রফেসর আমুদে ভঙ্গীতে জিজ্ঞাসা করেন, কিছু বলতে চাও? ছাত্র টি হাসি মুখে প্রফেসরের কাছে জানতে চায়, "আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি স্যার?"
অবশ্যই করতে পারো। প্রফেসর অনুমতি দিতেই ছাত্র টি জিজ্ঞাসা করে- "স্যার, ঠান্ডা বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব আছে কি?"???
প্রশ্ন শুনে প্রফেসরের চেহারায় বিরক্তি ফুটে ওঠে। "কি গাধার মত প্রশ্ন করো! ঠান্ডার অস্তিত্ব থাকবেনা কেন? অবশ্যই ঠান্ডার অস্তিত্ব আছে। তোমার কি কখনো ঠান্ডা লাগেনি?"
এবার ছাত্র টি মুচকি হেসে উত্তর দেয়, সত্যি বলতে কি স্যার, ঠান্ডার কোনো অস্তিত্ব নেই। আমরা যেটাকে ঠান্ডা বলি, পদার্থ বিজ্ঞানের ভাষায় সেটা আসলে তাপের অনুপস্থিতি। আমরা এই "ঠান্ডা' শব্দ টিকে জাস্ট কম তাপ কিংবা তাপের অনুপস্থিতি কে ব্যাখ্যা করার জন্য ব্যবহার করি।
কিছুক্ষণ পর ছাত্র টি আবারো প্রশ্ন করে, "স্যার অন্ধকার বলে কিছু কি পৃথিবীতে আছে?"
প্রফেসর উত্তর দেন, কেন থাকবেনা! অবশ্যই অন্ধকারের অস্তিত্ব আছে।
ছাত্র টি সহাস্যে উত্তর দেয়, আপনার ধারণা ভুল স্যার। অন্ধকার বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। আমরা আলো কে নিয়ে রিসার্চ করতে পারি, আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ মাপতে পারি, আলোর গতি বের করতে পারি। কিন্তু অন্ধকারের অস্তিত্ব নেই বলেই আমরা অন্ধকার নিয়ে কোনো কিছুই করতে পারিনা। সামান্য একটা আলোক রশ্নি অন্ধকার দূর করতে যথেষ্ঠ, কিন্তু অন্ধকার কখনো আলো কে গ্রাস করতে পারেনা। কারন অন্ধকার বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই, অন্ধকার হচ্ছে আলোর অনুপস্থিতি।
ছাত্র টি আবারও প্রশ্ন করে বসে। "স্যার, এবার বলেন খারাপের কি অস্তিত্ব আছে?"
প্রফেসর বেশ ক্রুদ্ধস্বরে উত্তর দেন, অবশ্যই আছে। প্রতিদিন কত মানুষ খুন হচ্ছে, অন্যায় হচ্ছে, এগুলো খারাপ না?"
ছাত্র টি বেশ জোরের সাথে উত্তর দেয়, "না স্যার। খারাপের কোনো অস্তিত্ব নেই, এটা হচ্ছে ভালোর অনুপস্থিতি। এটা সেই ঠান্ডা এবং অন্ধকারের মতই, মানুষের অন্তরে সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভালবাসার অনুপস্থিতিই এই খারাপ বা মন্দের অবস্থা তৈরি করে।

Collected .........!!!
এই ছাত্রটি ছিলেন নরেন্দ্রনাথ দত্ত, যিনি আজ সারা বিশ্বে স্বামী বিবেকানন্দ হিসাবে পরিচিত!!

Monday, July 13, 2020

July 13, 2020

পাটিগণিতের দিকপাল কেশবচন্দ্র নাগ ওরফে কে সি নাগ

#জন্মদিন_স্মরণ : পাটিগণিতের দিকপাল
--------------------------------------------------------
লেখা : সংগৃহীত
বর্তমান প্রজন্মের ছেলে -মেয়েরা হয়ত নামটা শোনেই নি তবে তিনি কত বড় অঙ্কের শিক্ষক ছিলেন সেটা আমরা জানি।
চৌবাচ্চা দিয়ে জল বেরোচ্ছে আর ঢুকছে ৷ তেলমাখা বাঁশে বাঁদর উঠছে আর নামছে ৷ সুদ চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ছে ৷ প্ল্যাটফর্ম ছাড়িয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে গতিময় ট্রেন। চলন্ত ট্রেনের দৈর্ঘ্য মাপার কৌশল। মনে আসছে কি!! হ্যা , কে সি নাগের সেই সব বিখ্যাত পাটিগণিতের অঙ্ক , যা রাত্রে শুয়ে পড়ার পরও মাথায় ঘুরপাক খেতো।
স্কুল পেরোনো মধ্যবয়সীদের অফিসে ডেডলাইন চাপের দুঃস্বপ্নেও ফিরে আসে কেশব চন্দ্রের নাম ৷ কারণ স্কুলস্মৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে সাদা পৃষ্ঠায় কালো অক্ষরে পাটীগণিত ৷ নাম তার ‘ কে সি নাগ ‘ ৷
হুগলির গুড়াপের নাগপাড়ায় ১৮৯৩-এর ১০ জুলাই রথযাত্রার দিন তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
তখন গুড়াপে একমাত্র একটাই স্কুল নীলমণি।সেখানেই ভর্তি হলেন শিশু কেশব ৷ পরে ক্লাস সেভেনে ভর্তি হলেন ভস্তারা যোগেশ্বর হাই স্কুলে ৷ নবম শ্রেণিতে ভর্তি হলেন কিষেনগঞ্জ হাই স্কুলে ৷
১৯১২ সালে প্রথম বিভাগে এন্ট্রান্স পাশ করে কেশব তখন কলকাতার রিপন কলেজের (আজকের সুরেন্দ্রনাথ কলেজ ) ছাত্র ৷ ১৯১৪ সালে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন আই.এ.স.সি. ৷
এরপর যোগেশ্বর স্কুলে থার্ড মাস্টারি কিছুদিন ৷ সঙ্গে প্রাইভেট টিউশনি ৷ এরপর উচ্চশিক্ষা ৷ বিজ্ঞান শাখায় না করে কেশবচন্দ্র স্নাতক হলেন অঙ্ক সংস্কৃত এবং কলাবিদ্যায় ৷ পেলেন বি.এ. ডিগ্রি ৷ এরপর কিষেণগঞ্জ স্কুলে গণিতের শিক্ষক ৷ পড়িয়েছিলেন বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজিয়েট স্কুলেও। তাঁর পড়ানোর খ্যাতি ছাড়িয়ে পড়ল ৷ স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায় তাঁকে নিয়ে এলেন কলকাতায় ৷ ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ৷ সেখান থেকেই প্রধান শিক্ষক রূপে অবসর নেন ৷
কলকাতায় প্রথমে থাকতেন রসা রোডের মেসে ৷ পরে দক্ষিণ কলকাতার গোবিন্দ ঘোষাল লেনে বাড়ি করেছিলেন ৷
শিক্ষকতা নিয়েই মগ্ন ছিলেন কেশবচন্দ্র ৷ স্কুলে অগ্রজ সহকর্মী ছিলেন কবি কালিদাস রায় ৷ তাঁর বাড়িতে বসত সাহিত্যিকদের আড্ডা ৷ মধ্যমণি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ৷ একদিন বৈঠকী মেজাজেই কথা সাহিত্যিক প্রস্তাব দিলেন বরং বই লিখুন কেশবচন্দ্র ৷ কিছুদিন পরে জোর করে বললেন কালিদাস রায় | যে কেশবচন্দ্রের অঙ্কের ক্লাস ছিল সাহিত্যের মতোই প্রাঞ্জল ৷ যাঁর ক্লাস করতে মুখিয়ে থাকত ছাত্ররা‚ তিনি বই লিখলে আখেরে লাভ পড়ুয়াদেরই ৷
তিনের দশকে প্রকাশিত হল ‘ নব পাটীগণিত ‘ ৷ ইউ. এন. ধর অ্যান্ড সন্স থেকে ৷ কেশবচন্দ্র নাগ থেকে তিনি হলেন কে. সি. নাগ ৷ শরৎচন্দ্র তাঁর নাম দিলেন গণিত শিল্পী৷ দ্রুত জনপ্রিয় হল কে. সি. নাগের পাঠ্যপুস্তক ৷ ১৯৪২ সালে বেরোলো  ম্যাট্রিক ম্যাথেমেটিক্স ৷ এত চাহিদা হল‚ যে ছাপিয়ে কূল করা যেত না ৷ বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে কে. সি. নাগের গণিত বই ৷ পাকিস্তান বোর্ডের জন্যও লিখেছেন বই ৷ আছে তাঁর বইয়ের ব্রেল সংস্করণ। সামিল হয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামেও ৷ গান্ধীজির ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দিয়ে গ্রেফতার হন ৷ জেল খেটেছিলেন ম্যালেরিয়ায় ভুগতে ভুগতে ৷ পরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রস্তাব দেন ভোটে দাঁড়ানোর ৷ সবিনয়ে তা ফিরিয়ে দেন অঙ্কের মাস্টারমশা
ক্রিকেট ভালোবাসতেন।সেই খেলার ধারাবিবরণী শুনতে শুনতেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ৷ থেমে এল সব গণনা ৷ ১৯৮৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি নেমে এল গণিতশাস্ত্রজ্ঞর জীবনের শেষ অঙ্ক ৷
তাঁর ছাত্রদের তালিকায় আছেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়‚ সুভাষ মুখোপাধ্যায়‚ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়‚ বিকাশ রায়‚ রঞ্জিত মল্লিকের মতো দিকপালরা ৷ তাঁর বই বিক্রির রয়ালটির টাকা চলে যায় চ্যারিটি ফান্ডে ৷ তাঁর এবং তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মীমণি দেবীর নামে ফান্ড ৷ গুড়াপে লোকচক্ষুর আড়ালেই পালিত হয় তাঁর জন্মবার্ষিকী ৷

Courtesy::Sudip Bharati